গ্রাফিক ডিজাইনারদের এই বিষয়গুলো জানতেই হবে

গ্রাফিক ডিজাইন হলো যোগাযোগের মাধ্যম। আমরা যখন কোন ডিজাইন দেখি তখন যা বুঝি সেটাই হচ্ছে ডিজাইনের ভাষা। তাই এমনভাবে ডিজাইন করতে হবে যেটা ডিজাইনের ভাষায় প্রকাশিত হয়। আমরা যখন লাল রঙের কোন ডিজাইন দেখি তখন সেই রঙ দিয়েই তীব্রতা প্রকাশিত হয়।

গ্রাফিক ডিজাইন হলো ক্রিয়েটিভ চিন্তার বাস্তব রুপদানের সমাধান। গ্রাফিক ডিজাইন দিয়েই ক্রিয়েটিভ চিন্তা কে বহিঃপ্রকাশ করা হয়। আমরা চারিদিকে যত কিছু দেখি সব কিছুই গ্রাফিক ডিজাইনের অবদান।

গায়ের জামা থেকে শুরু করে ঘরের সকল আসবাব পত্রই গ্রাফিক ডিজাইনের অবদান। তাই গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে আপনার চারপাশ অবজার্ব করার ক্ষমতাও থাকতে হবে।

প্রযুক্তি টিম

গ্রাফিক ডিজাইন যুগ যুগ ধরে ছিল, আছে এবং থাকবে।

গ্রাফিক ডিজাইন কতটা শক্তিশালী তা দেখুন সেই ১৯৩৮ সালের বাটা বিজ্ঞাপনে!

 

গ্রাফিক ডিজাইন

ক্রিয়েটিভ ব্লক সমাধান

ক্রিয়েটিভ কাজে অনেক সময় হতাশা চলে আসে যা খুবই কমন। সেটা ডিজাইন হোক কিংবা কবিতা। ক্রিয়েটভ ব্লক ডিজাইনারদের জন্য খুবই কমন। হতে পারে সেটা কয়েক মিনিটের জন্য কিংবা দিনের জন্য। এটা যে কারণে হয় সেটা খুজে বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাহলে আপনার কাজ হবে আরো বেশি আনন্দপূর্ণ এবং চাপহীন। এছাড়াও আপনি আরো নতুন ডিজাইন করার জন্য চ্যালেঞ্জ অনুভব করতে পারবেন। অনেক ধরণের অনুশীলন রয়েছে যে গুলো করলে আপনার মাইন্ড হতে পারবে রিল্যাক্স এবং আপনার আইডিয়া হবে তখন আরো বেশি ধারালো।

ড্রয়িং এবং পেন্সিল স্কেচ

ড্রয়িং এবং স্কেচিং হচ্ছে মানুষের আদিম মাইন্ড ম্যাপিং পদ্ধতি। বর্তমান এই কম্পিউটার এবং মোবাইলের যুগে কলম কিংবা পেন্সিল হয়তো খুব বেশি ধরা হয় না কিন্তু ড্রয়িং এবং স্কেচিং ক্রিয়েটিভ কাজে সব সময়ই মৌলিক। যে কোন ধরণের ভিজুয়াল আর্টের কথা চলে আসে তখন সেটা শুরুই হয় ড্রয়িং দিয়ে। প্রত্যেক আইডিয়া স্কেচ দিয়েই শুরু করা উচিত। যখন আমরা এই স্টেপ বাদ দিয়ে চলে যাই তখনই আমাদের ডিজাইনে চলে আসে অপরিপূর্ণতা। তাই ডিজাইনার হিসেবে স্কেচিং অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া উচিত সব সময়।

 

স্কেচ

কালার, লে আউট এবং টাইপোগ্রাফি

 

ডিজাইন ভাল করার জন্য অনেক কিছুই আপনাকে জানতে হবে তবে প্রধান এবং মৌলিক টপিক হলো টাইপোগ্রাফি, লে আউট এবং রঙ। এই ডিজাইন এলিমেন্টগুলো হচ্ছে ডিজাইনের জন্য DNA এবং আপনার ডিজাইন কতটা ইফেকটিভ হবে সেটা এগুলোর উপরেই অনেকটা নির্ভর করে। আপনি যখন ডিজাইন শুরু করবেন তখন এগুলোর দিকেই প্রথম ফোকাস করুন। কারণ এগুলোই আপনাকে বলে দিবে আপনার ডিজাইন কেমন হতে যাচ্ছে এবং আপনার ক্যারিয়ার কিভাবে বিল্ড আপ হচ্ছে।

 

কালার সোয়াচ

 

সফটওয়্যার

ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর হচ্ছে বর্তমানে সবচেয়ে বহুল প্রচলিত সফটওয়্যার। আপনার কাজ সহজে এবং দ্রুত গতিতে করতে এই সফটওয়্যারগুলোর কোন জুড়ি নেই। যদিও বিভিন্ন ওপেন সোর্স সফটওয়্যার রয়েছে যেগুলো দিয়েও ডিজাইন করা যায় তবে ডিজাইনার কমিনিউটিতে ফটোশপ এবং ইলাস্ট্রেটর সফটওয়্যারই বিভিন্ন কারণে সমাদৃত। এমনকি অনেক জব অফারে এটা উল্লেখই করা থাকে যে এই সফটওয়্যারগুলো জানা থাকা লাগবে।

ফটোশপ

 

 

আউট পুট এবং প্রিন্ট

কথায় আছে শেষ ভাল যার সব ভাল তার। ডিজাইনেও তাই। আপনি যদি না জানেন কিভাবে আপনার ফাইনাল ডিজাইন বেস্ট রেজাল্ট দিবে তাহলে আপনি যত ভাল ডিজাইনারই হোন না কেন আপনার অনেক কাজই বৃথা যাবে। ডিজাইনারকে অবশ্যই জানতে হবে কিভাবে এই ফাইল ডিজিটাল বিভিন্ন ফরম্যাটে যেমন  ইবুক, ওয়েব সাইট কিংবা অ্যাপসে সব চেয়ে ভাল দেখাবে এবং প্রিন্টের জন্য বিশেষ ফরম্যাট, সেটিংস সহ সব কিছুই সঠিকভাবে জানতে হবে। আপনি যদি প্রিন্ট মিডিয়াতে নতুন জব নিয়ে থাকেন তাহলে এই সেক্টরে যারা অভিজ্ঞ তাদের সাথে কথা বলুন এবং না জানা বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন করে জেনে নিন।

 

print

 

মাল্টিমিডিয়া আর্টিস্টদের জয়জয়কার

 

ক্রিয়েটিভ জগতে নিয়ম তৈরিই করা হয় ভেংগে ফেলার জন্য। উপরে অনেক ধরণের নিয়ম নিয়ে কথা বলা হলো কিন্তু এর বাইরেও আরেক নিয়ম হচ্ছে সব নিয়ম ভেংগে ইউনিক কিছু করা। আমাদের দেশে ডিজাইন হাউজে সব সময়ই এমন ডিজাইনার খোজা হয় যারা একই সাথে লোগো ডিজাইন, ম্যাগাজিন, অ্যাপস এবং ওয়েব ডিজাইন মক আপ করতে পারবে। এমনকি  অনেক হাউজেই ডিজাইনারকে ভিডিও এডিটিং এবং শুটিং ও জানতে হয়! তাই এই যুগে যত বেশি জানবেন তত বেশি কাজের ক্ষেত্র বাড়বে। মাল্টিমিডিয়া সব সময়ই এগিয়ে যাবে এই ডিজিটাল যুগে।

 

woman designer working on the pen table in office top view

 

ফেইসবুকের সাহায্যে মন্তব্য দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.