প্রোডাক্ট ডিজাইন -এ সলিডওয়ার্কসের ব্যবহার জেনে নিন এই ব্লগে!!

প্রোডাক্ট ডিজাইন -এ সলিডওয়ার্কসের ব্যবহার

বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইন সেকশনে বিশ্বব্যপী বহু ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনাররা  বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রোডাক্ট ডিজাইনিং এ অবদান রেখে চলেছেন। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনারদের এই কর্মযজ্ঞে যে ইঞ্জিনিয়াররা নিয়োজিত থাকেন, তাদের কাজের ধরণ প্রোডাকশন ও  মেইনটেইনেন্স ইঞ্জিনিয়ারদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তারা শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং টার্ম নিয়েই চিন্তা করেন এমনটা কিন্তু নয়; তাদের দায়িত্ব থাকে প্রোডাক্টটিকে আকর্ষণীয় ও সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা। একইসাথে প্রোডাক্ট এর মূল্য যাতে ক্রেতার হাতের নাগালে থাকে তা নিশ্চিত করাও কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনারদের দায়িত্ব। আর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারদের এই প্রোডাক্ট ডিজাইন এর কাজ সহজ করার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার হল সলিডওয়ার্কস।

P 1

প্রোডাক্ট ডিজাইন বিষয়টি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিষয়গুলোর একটি। প্রোডাক্ট ডিজাইনের কাজটি মূলতঃ ইন্ডাস্ট্রিয়াল  ডিজাইনাররা করলেও এটি মূলতঃ একটি টিমওয়ার্কের ফসল; যেই টিমে বিভিন্ন ধরণের স্কিলের লোক কাজ করেন; এটি নির্ভর করে কোন ধরণের প্রোডাক্ট তৈরি করা হচ্ছে তার প্রকৃতি অনুসারে। টিমে সাধারণতঃ যে তিন ধরণের স্কিলের লোক থাকেন; তারা হলেনঃ

১। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনার

২।ফিল্ড এক্সপার্ট ( সম্ভাব্য ব্যবহারকারী)

৩। ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন ফিল্ডের ইঞ্জিনিয়ার

এই প্রক্রিয়াটি আসলে একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এর বিভিন্ন ধাপের মাঝে প্রথম ধাপটি হল কি কি দরকার ডিজাইনিং এর জন্য তা খুঁজে বের করা। এরপর বিভিন্ন ধরণের আইডিয়া নিয়ে পর্যালোচনা করে প্রোডাক্টটির একটি মক প্রোটোটাইপ তৈরি করা। আর সর্বশেষ ধাপ হলঃ আসল প্রোডাক্টটি তৈরি করা। প্রোডাক্ট ডিজাইনারদের কাজ কিন্তু এখানেই শেষ নয়। তাদের এই আইডিয়াটি বাস্তবায়ন করা, এই প্রোডাক্টটি বাস্তবে বানান ও তারপর পর্যবেক্ষণ করে দেখা যে, ডিজাইনে আরো কোন উন্নতি আনা যায় কিনা। এভাবেই, ধীরে ধীরে তৈরি হয় প্রায় নিখুঁত চুড়ান্ত ডিজাইনের প্রোডাক্ট।

P2

প্রোডাক্ট ডিজাইন প্রক্রিয়াটি বিগত কয়েক বছরে বিশ্বব্যপী বেশ ছড়িয়ে পড়েছে থ্রিডি প্রিন্টিং এর ব্যপকতার মাধ্যমে। নতুন গ্রাহক বান্ধব থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে ডাইমেনশনাল অবজেক্ট প্রিন্ট করা যায়। এখানেই আপনাদেরকে বলে রাখি থ্রিডি প্রিন্টিং বা ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ প্রক্রিয়া আসলে কি? এই প্রক্রিয়ায় তরল পলিমারের (এক ধরণের কালি) সাহায্যেই প্রিন্টিং করা হয়; যা সাধারণ ইংক জেট প্রিন্টার যেভাবে স্প্রে করে প্রক্রিয়াটি অনেকটা সেরকমই। এরপর কালি শক্ত করার জন্য অতি বেগুনি রশ্মি ব্যবহার করা হয় যার মাধ্যমে বস্তুটির একটি প্রতিরূপ সৃষ্টি হয়। থ্রিডি প্রিন্টিং শুধু পলিমারের জন্য ব্যবহৃত হয় এরকম সাধারণ একটি ভুল ধারণা থাকলেও এটি ইস্পাতের মতো ধাতব পদার্থের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য।

প্রোডাক্ট ডিজাইনের মত জটিল একটি বিষয়কে সহজ করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে সলিডওয়ার্কসের।  সলিডওয়ার্কস আর প্রোডাক্ট ডিজাইন যেন সমার্থক শব্দেই পরিণত হয়েছে। বিশ্বের এমন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনার খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যার সলিডওয়ার্কস ডিজাইনিং সম্পর্কে গভীর ধারণা নেই। এর আসল কারণ হল সলিডওয়ার্কসের সহজ এবং আকর্ষণীয় ইউজার ইন্টারফেস প্রোডাক্ট ডিজাইনের জটিল সমস্যাগুলি সমাধানে রাখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এর পাশাপাশি সলিডওয়ার্কসের সিমুলেশন টেকনিক প্রোডাক্ট ডিজাইনারদের জন্য হয়ে এসেছে আশির্বাদ হয়ে। থ্রিডি প্রিন্টিং এ ট্রায়াল এন্ড এরোর টেকনিকে যাওয়ার আগেই প্রোডাক্টের অনেক টেকনিক্যাল ডিটেইলস পরীক্ষা করে নেয়া যায় সলিডওয়ার্কসের মাধ্যমেই। এছাড়াও, সলিডওয়ার্কসের ম্যাস ক্যাল্কুলেশনের মাধ্যমে ম্যাটেরিয়াল সিলেক্ট করে ভর, ঘনত্ব প্রভৃতি গণনা করে আগেই প্রোডাক্টের প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা নেয়া যায় যা পরবর্তীতে থ্রিডি প্রিন্টিং প্রক্রিয়ার বিভিন্ন সমস্যাকে আগেই দূরীভুত করে দেয়। তাই, বিশ্বের সব বিখ্যাত ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনাররা এখন সলিডওয়ার্কস ডিজাইনিং এর উপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন।

P3

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনিং এর বিষয়টি বাংলাদেশে বেশ নতুন হলেও বিশ্বে এটি বেশ জনপ্রিয় একটি ক্ষেত্র। একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনারের ডিজাইনিং এর শুরুটা হয় ফ্রি-হ্যান্ড স্কেচ দিয়ে। ফ্রি-হ্যান্ড স্কেচ এর মাধ্যমে একজন ডিজাইনার তার মনের মাধুরি মিশিয়ে তার কল্পনার জগতকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। এই আঁকিবুকির মধ্য দিয়েই কিন্তু বেরিয়ে আসে অসাধারণ জনপ্রিয় কিছু ডিজাইনের প্রথম খসড়া। তাই, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনারদের একটি শিল্পীস্বত্তাও থাকে একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। হাতে আঁকা ডিজাইনগুলো পরে সলিডওয়ার্কসের বিভিন্ন ফিচার ব্যবহার করে ও ম্যাটেরিয়াল সিলেক্ট করে থ্রিডি মডেলে রূপদান করা হয়। এরপর, ম্যাস ক্যালকুলেশন ও সিমুলেশন টেকনিক ব্যবহার করে চুড়ান্ত ডিজাইন নির্ণয় করা হয়। এরপর তৈরি করা হয় একটি মক প্রোটোটাইপ; যার মাধ্যমে প্রোডাক্টের ডিটেইলস সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। এই প্রোটোটাইপ পছন্দ হলেই তবেই প্রোডাক্টটি বিশাল আকারে প্রোডাকশনের জন্য নির্বাচন করা হয়। এটিই, সংক্ষেপে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনারদের একটি প্রোডাক্ট তৈরির জন্য অনুসরণ করা বিভিন্ন ধাপগুলো।

P 5

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনারদের তৈরি করা বিভিন্ন ডিজাইনের প্রোডাক্ট নিয়ে ফিল্ড এক্সপার্টরা ব্যবহারকারীদের মতামত গ্রহন করেন। এজন্য তারা বিভিন্ন জরিপের সাহায্য নেন। এখন অনলাইন সারভে করা এসব জরিপের জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি বিষয়।প্রোডাক্ট ব্যবহারকারীদের মতামত ও পছন্দের ভিত্তিতে সবচেয়ে ব্যবহারযোগ্য ও দর্শনীয় ডিজাইনগুলো তারা নির্বাচন করেন চুড়ান্ত ডিজাইন হিসেবে। এরপর, তারা এই বাছাইকৃত ডিজাইনগুলো প্রোডাকশনের জন্য নির্বাচন করে প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারদেরকে হস্তান্তর করেন।

P6

ফিল্ড এক্সপার্টদের পাঠানো সিলেক্টিভ ডিজাইনগুলো ইঞ্জিনিয়াররা বিভিন্ন বাস্তবধর্মী প্যারামিটারের সাহায্যে পরীক্ষা করেন। ম্যাটেরিয়াল অনুযায়ী বিভিন্ন ম্যাটেরিয়াল টেস্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করে-প্রোডাক্টটি বাস্তব জীবনে যেই কাজে ব্যবহৃত হবে সেই পরিবেশে যাতে অনেকদিন টিকে থাকতে পারে সেই বিষয়টি ইঞ্জিনিয়াররা নিশ্চিত করেন। এই সবকিছু যখন ঠিকঠাক হয়, তখন ইঞ্জিনিয়াররা প্রোডাক্টটি  বিশাল আকারে প্রোডাকশনের জন্য তৈরি করেন। এই প্রোডাক্টগুলো তখন বাজারে ছাড়া হয়; আর এর মাধ্যমেই প্রোডাক্ট ডিজাইনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়।

সলিডওয়ার্কসের ব্যবহার ছাড়া প্রোডাক্ট ডিজাইনের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া হবে আরো কঠিন ও আরো জটিল। তাই, একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, প্রোডাক্ট ডিজাইনের এই প্রক্রিয়া সহজ, সুল্ভ ও দ্রুতকরণে সলিডওয়ার্কসের কোন বিকল্প নেই।

 

 

ফেইসবুকের সাহায্যে মন্তব্য দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.