সকালে গাড়ি নিয়ে বের হবেন। হাতে সময় কম। গাড়ির কাছে গিয়ে দেখলেন, একটি টায়ার অন্যগুলোর তুলনায় একটু বসে আছে। তখনই মনে হলো, শেষ কবে টায়ারের চাপ দেখেছিলেন?
গাড়ির যত্ন মানে শুধু সার্ভিসিংয়ের দিন গ্যারেজে যাওয়া নয়। ছোট কিছু বিষয় নিয়মিত খেয়াল করলে রাস্তায় বের হওয়ার আগে সমস্যা চোখে পড়তে পারে। Driving Test Success-এর গাড়ির যত্নবিষয়ক লেখাটির সঙ্গে UK-এর সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা মিলিয়ে সহজ কিছু অভ্যাস এখানে তুলে ধরেছে Projukti Team।
গাড়িতে ওঠার আগে একবার চারপাশে দেখুন
প্রতিবার যাত্রার আগে বড় কোনো পরীক্ষা করতে হবে না। গাড়ির চারপাশে হাঁটতে হাঁটতে দেখুন টায়ারে চোখে পড়ার মতো ক্ষতি আছে কি না, লাইটগুলো ঠিক আছে কি না এবং গাড়ির নিচে কোনো তরল পড়ে আছে কি না।
গাড়িতে বসে আয়না ও সিট ঠিক করুন। চালানো শুরু করার আগে ব্রেক ও স্টিয়ারিং স্বাভাবিক লাগছে কি না, সেটিও খেয়াল করুন। সরকারি ড্রাইভিং গাইডে এসব প্রাথমিক নিরাপত্তা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টায়ারের চাপ আর ক্ষয় নিয়মিত দেখুন
টায়ারে বাতাস কম বা বেশি থাকলে গাড়ি চালানোর অনুভূতি বদলে যেতে পারে। চাপ মাপার সময় টায়ার ঠান্ডা থাকা ভালো। আপনার গাড়ির জন্য কত চাপ দরকার, তা গাড়ির ম্যানুয়াল দেখে জেনে নিন।
টায়ারের গায়ে কাটা বা ফোলা অংশ আছে কি না, সেটিও দেখুন। UK-তে গাড়ির টায়ারের খাঁজের গভীরতা মাঝের তিন-চতুর্থাংশ জুড়ে এবং পুরো টায়ারের চারদিকে অন্তত ১.৬ মিলিমিটার হতে হবে। খাঁজ কমে গেলে বা ক্ষতি চোখে পড়লে পরীক্ষা করান।
তেল ও অন্য তরলগুলো ভুলে যাবেন না
ইঞ্জিন অয়েল, কুল্যান্ট, ব্রেক ফ্লুইড আর উইন্ডস্ক্রিন পরিষ্কারের তরল ঠিক পরিমাণে আছে কি না, নিয়মিত দেখুন। কোনটি কোথায় পরীক্ষা করতে হয় বা কখন বদলাতে হয়, তা গাড়িভেদে আলাদা হতে পারে। তাই নিজের গাড়ির ম্যানুয়াল অনুসরণ করুন।
একটি সতর্কতার কথা মনে রাখুন: ইঞ্জিন গরম থাকলে কুল্যান্টের ঢাকনা খুলবেন না। ইঞ্জিন স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ব্রেক ফ্লুইড কমে গেলে বা কোথাও তরল চুইয়ে পড়তে দেখলে কারণটি গ্যারেজে পরীক্ষা করান।
লাইট, কাচ আর ওয়াইপার পরিষ্কার রাখুন
বৃষ্টির দিনে ওয়াইপার ঠিকমতো কাজ না করলে সামনে দেখতে কষ্ট হয়। তাই ওয়াইপারের ব্লেড, উইন্ডস্ক্রিন আর ওয়াশার ফ্লুইড খেয়াল করুন। হেডলাইট, ব্রেক লাইট ও ইন্ডিকেটর কাজ করছে কি না, সেটিও দেখে নিন। একা ব্রেক লাইট পরীক্ষা করতে অসুবিধা হলে কাউকে সাহায্য করতে বলতে পারেন।
গাড়ি যা বোঝাচ্ছে, তা শুনুন
স্টার্ট নিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগছে? ব্রেক করলে অদ্ভুত শব্দ হচ্ছে? গাড়ি একদিকে টানছে বা ড্যাশবোর্ডে সতর্কতার আলো জ্বলছে? “পরে দেখব” বলে এগুলো ফেলে রাখবেন না। বিশেষ করে ব্রেক বা স্টিয়ারিংয়ে সমস্যা মনে হলে দ্রুত একজন মেকানিকের পরামর্শ নিন।
পাশাপাশি গাড়ির ম্যানুয়ালে দেওয়া সার্ভিসের সময়সূচি মেনে চলুন। নিয়মিত ধোয়া ও ভেতরটা পরিষ্কার রাখাও ভালো অভ্যাস। এতে ময়লা, রাস্তার লবণ বা পাখির বিষ্ঠা গাড়িতে দীর্ঘ সময় লেগে থাকে না।
শুরু করুন ছোট একটি রুটিন দিয়ে
সপ্তাহে একটি দিন বেছে নিন। সেদিন টায়ারের চাপ, তরলের পরিমাণ, লাইট আর ওয়াইপার দেখে নিন। গাড়িতে নতুন কোনো শব্দ বা পরিবর্তন টের পেলে সেটিও লিখে রাখুন। সব কাজ নিজে মেরামত করতে হবে না। কোন বিষয়টি স্বাভাবিক আর কখন সাহায্য নিতে হবে, সেটি বুঝতে পারাই প্রথম ধাপ।
গাড়ির এসব সাধারণ পরীক্ষা UK Driving Theory Test-এর প্রস্তুতিতেও কাজে আসে। নিয়মগুলো সহজ বাংলায় বুঝে পড়তে চাইলে Projukti Team-এর UK Driving Theory Test কোর্সটি দেখুন।



