Eng বাংলা
Uncategorized @bn

স্টিয়ারিং ধরলেই ভয় লাগে? নাদিয়ার ড্রাইভিং শেখার গল্প

স্টিয়ারিং ধরলেই ভয় লাগে? নাদিয়ার ড্রাইভিং শেখার গল্প

নাদিয়ার ড্রাইভিং ক্লাস শুরু হয়েছে কয়েক সপ্তাহ হলো। ফাঁকা রাস্তায় সে মোটামুটি স্বচ্ছন্দ। কিন্তু ব্যস্ত মোড়ের কাছে এলেই হাত শক্ত হয়ে যায়। মাথায় একসঙ্গে অনেক চিন্তা আসে: “ভুল লেনে চলে যাব না তো? পেছনের গাড়ি হর্ন দিলে কী করব?”

একদিন ক্লাস শেষে সে প্রশিক্ষককে বলল, “আমি হয়তো গাড়ি চালানোর জন্য তৈরি নই।”

প্রশিক্ষক তাকে আরেকটি ছোট ক্লাসের পরিকল্পনা করতে বললেন। পরের দিন তারা ব্যস্ত মোড়ে গেলেন না। পরিচিত, শান্ত একটি রাস্তায় অনুশীলন করলেন। নাদিয়ার ভয় সেদিন শেষ হয়নি। তবে সে বুঝল, কোন পরিস্থিতিতে ভয়টা বাড়ে।

গাড়ি চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তা কারও হালকা হতে পারে, আবার কারও বুক ধড়ফড় করা, ঘাম হওয়া বা মনোযোগ ধরে রাখতে কষ্ট হওয়ার মতো অনুভূতিও হতে পারে। আগের কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা, ভুল করার ভয় বা অনুশীলনের অভাব এর পেছনে থাকতে পারে। সবার জন্য একই উপায় কাজ করবে, এমনও নয়।

আগে বুঝুন, ঠিক কোন জায়গায় ভয় লাগে

নাদিয়া ভাবত, সে সব ধরনের ড্রাইভিংয়েই ভয় পায়। পরে খেয়াল করল, তার ভয় বেশি হয় ব্যস্ত মোড়ে আর পেছনের গাড়ি খুব কাছে এলে।

আপনার ক্ষেত্রেও বিষয়টি নির্দিষ্ট হতে পারে। রাউন্ডঅ্যাবাউট, পার্কিং, অপরিচিত রাস্তা কিংবা পরীক্ষার কথা ভাবলে ভয় বাড়ে কি না, লিখে রাখুন। তাহলে প্রশিক্ষককে সমস্যাটি বোঝানো সহজ হবে।

প্রশিক্ষককে খুলে বলুন

“আমি ভয় পাচ্ছি” কথাটি বলতে অস্বস্তি লাগতে পারে। কিন্তু প্রশিক্ষক জানলে ক্লাসের গতি ও অনুশীলনের জায়গা আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ঠিক করতে পারবেন। UK-এর সরকারি Ready to Pass? নির্দেশনাতেও ড্রাইভিং পরীক্ষার নার্ভাসনেস নিয়ে প্রশিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়েছে।

নাদিয়া তাই পরের ক্লাসে একটি অনুরোধ করল: “আজ আগে শান্ত রাস্তায় মোড় নেওয়া অনুশীলন করি। তারপর ব্যস্ত রাস্তায় যাব।” এতে সে নিজের দুর্বল জায়গাটিতে মন দিতে পারল।

ছোট ধাপে অনুশীলন করুন

প্রথম দিনেই সবচেয়ে ব্যস্ত রাস্তায় আত্মবিশ্বাসী হতে হবে না। পরিচিত রাস্তায় শুরু করুন। সেটি সহজ লাগলে ধীরে ধীরে নতুন মোড়, বেশি যান চলাচল বা অপরিচিত পথ অনুশীলনে আনুন।

NHS দুশ্চিন্তা তৈরি করে এমন পরিস্থিতি একেবারে এড়িয়ে না গিয়ে ধীরে ধীরে তাতে সময় বাড়ানোর পরামর্শ দেয়। ড্রাইভিং শেখার সময় এই কাজটি প্রশিক্ষকের সহায়তায়, নিরাপদভাবে করুন।

ভয় বেশি হলে আগে নিরাপত্তা

ক্লাসের আগে একটু অস্থির লাগলে ধীরে শ্বাস নেওয়া বা প্রশিক্ষকের সঙ্গে কথা বলা সাহায্য করতে পারে। ভালো ঘুম এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলার কথাও সরকারি ড্রাইভিং টেস্ট নির্দেশনায় আছে।

চালানোর সময় যদি এতটাই ভয় হয় যে মনোযোগ রাখা কঠিন হয়ে যায়, প্রশিক্ষককে জানান। নিরাপদ ও অনুমোদিত জায়গায় গাড়ি থামান। শান্ত হয়ে, গাড়ি চালানোর মতো অবস্থায় ফিরলেই আবার শুরু করুন। NHS-এর পরামর্শেও গাড়ি চালানোর সময় তীব্র আতঙ্ক হলে নিরাপদ জায়গায় থামতে বলা হয়েছে।

সাহায্য চাওয়া স্বাভাবিক

কয়েকটি ক্লাসের পর নাদিয়া আবার সেই ব্যস্ত মোড়ে গেল। এবারও সে নার্ভাস ছিল। তবে আগে থেকে কী দেখতে হবে তা জানত এবং প্রশিক্ষককে নিজের অবস্থাও বলতে পারছিল। তার অগ্রগতি ছিল ছোট, কিন্তু বাস্তব।

যদি ভয় বারবার খুব তীব্র হয়, দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলে বা নিজের চেষ্টায় সামলাতে না পারেন, GP বা NHS talking therapies-এর সাহায্য নিতে পারেন। আর anxiety রোগ হিসেবে শনাক্ত হয়ে থাকলে এবং তা নিরাপদে গাড়ি চালানোর ক্ষমতায় প্রভাব ফেললে DVLA-কে জানানোর নিয়ম আছে। এ বিষয়ে নিশ্চিত না হলে চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।

Projukti Team এ আমরা মনে করি, নিয়ম নিজের ভাষায় বুঝতে পারলে ড্রাইভিং শেখার প্রস্তুতি আরও গুছিয়ে নেওয়া যায়। UK Driving Theory Test-এর নিয়মগুলো সহজ বাংলায় পড়তে চাইলে আমাদের কোর্সটি দেখুন। আর রাস্তায় অনুশীলনের সময় নিজের ভয় ও প্রশ্নগুলো প্রশিক্ষককে জানান।

Share This Post

Related Blog

No blogs available